নিকাহনামা বাংলা থেকে ইংরেজি রূপান্তরে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
অভিযুক্ত কাজী সেলিম উদ্দিন
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় নিকাহনামা বাংলা থেকে ইংরেজিতে রূপান্তরের নামে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে এক কাজির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম তার বোনের বিয়ের নিকাহনামা ইংরেজি ভাষায় রূপান্তরের জন্য গত ১২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট কাজি মো. সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় কাজি তাকে জানান, এ সেবা পেতে মোট ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকার কারণ জানতে চাইলে কাজি জানান, এর মধ্যে ৫ হাজার টাকা তার স্বাক্ষর খরচ এবং বাকি ১০ হাজার টাকা সরকারি দপ্তরে দিতে হবে। তবে সরকার নির্ধারিত কোনো ফি বা এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নিকাহনামা বাংলা থেকে ইংরেজিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো নির্ধারিত ফি নেই। এরপরও এভাবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা স্পষ্টভাবে ঘুষ ও দুর্নীতির শামিল বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম জানান, কাজির সঙ্গে তার একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথোপকথন হয়েছে এবং সেসব কথোপকথনে ঘুষ দাবির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ওই কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এভাবে টাকা আদায় করা অন্যায়। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজি মো. সেলিম উদ্দিনকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের কি প্রমাণ আছে?” প্রতিবেদক কল রেকর্ডের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, “পারলে আমার ব্যবস্থা নেন।”
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, “বিষয়টি আমি গতকাল সন্ধ্যায় জানতে পেরেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছি।”
পরবর্তীতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। চরক্লার্ক ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত কাজি মো. সেলিম উদ্দিন ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অনিয়মে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট নিকাহনামায় স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন।

আপনার মতামত লিখুন